Psalms 69

1হে ঈশ্বর, আমাকে উদ্ধার কর, আমি যেন জলে ডুবে যাচ্ছি। 2আমি গভীর পাঁকের মধ্যে ডুবে যাচ্ছি, সেখানে আমার দাঁড়াবার জায়গা নেই। আমি গভীর জলে এসে পড়েছি; বন্যা আমার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। 3ডাকতে ডাকতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, আমার গলা শুকিয়ে গেছে; আমার ঈশ্বরের জন্য চেয়ে থাকতে থাকতে আমার চোখও ঝাপ্‌সা হয়ে গেছে। 4যারা অকারণে আমাকে ঘৃণা করে, তাদের সংখ্যা আমার চুলের চাইতেও বেশী। যারা আমাকে ধ্বংস করে ফেলতে চায় তারা বেশ শক্তিশালী; তারা মিথ্যা কারণে আমার শত্রু হয়েছে। আমি যা চুরি করি নি তা-ও আমাকে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। 5হে ঈশ্বর, তুমি তো আমার বোকামির কথা জান; আমার দোষ তোমার কাছে লুকানো নেই। 6হে প্রভু, সর্বক্ষমতার অধিকারী সদাপ্রভু, যারা তোমার অপেক্ষায় থাকে আমার দরুন তারা যেন লজ্জা না পায়। হে ইস্রায়েলের ঈশ্বর, যারা তোমাকে জানবার জন্য আগ্রহী তারা যেন আমার দরুন অসম্মানিত না হয়। 7আমি তোমার জন্যই অপমান সহ্য করেছি, অসম্মানে আমার মুখ ঢেকে গেছে। 8আমার ভাইদের কাছে আমি যেন অচেনা হয়ে গেছি, মায়ের পেটের ভাইদের কাছে বিদেশী হয়েছি। 9তোমার ঘরের জন্য আমার যে গভীর ভালবাসা, সেই ভালবাসাই আমার অন্তরকে জ্বালিয়ে তুলেছে। যারা তোমাকে অপমান করে তাদের করা সব অপমান আমার উপরেই পড়েছে। 10আমার কান্না আর আমার উপবাসের কষ্ট আমার দুর্নামের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। 11আমি যখন চট পরেছি তখন লোকে আমাকে টিট্‌কারি দিয়েছে। 12যারা শহরের ফটকে বসে তাদের মধ্যে আমাকে নিয়ে কথা ওঠে; মাতালেরা আমাকে নিয়ে গান বাঁধে। 13কিন্তু হে সদাপ্রভু, যে সময়ে তোমার দয়া পাওয়া যায় আমি সেই সময়ে তোমার কাছে প্রার্থনা করছি; হে ঈশ্বর, তোমার অটল ভালবাসায় তোমার উদ্ধার করার বিশ্বস্ততা দেখিয়ে আমাকে উত্তর দাও। 14পাঁক থেকে আমাকে উদ্ধার কর, আমাকে ডুবে যেতে দিয়ো না; আমার শত্রুদের হাত থেকে তুমি আমাকে উদ্ধার কর, উদ্ধার কর অথৈ জলের মধ্য থেকে। 15বন্যা যেন আমার উপর দিয়ে বয়ে না যায়, গভীর জল যেন আমাকে তলিয়ে না ফেলে; মৃতস্থানের মুখ যেন আমার উপর বন্ধ না হয়। 16হে সদাপ্রভু, তোমার মংগলময় অটল ভালবাসায় আমাকে তুমি উত্তর দাও; তোমার অসীম করুণায় তুমি আমার দিকে ফেরো। 17তোমার দাসের দিক থেকে তোমার মুখ তুমি ফিরিয়ে রেখো না; আমি বিপদে পড়েছি, আমাকে শীঘ্র উত্তর দাও। 18তুমি আমার কাছে এসে আমাকে ছাড়িয়ে নাও; তুমি আমাকে মুক্ত কর, কারণ আমার শত্রু রয়েছে। 19আমি যে কত ঘৃণা, লজ্জা ও অসম্মানের পাত্র হয়েছি তা তো তুমি জান; আমার শত্রুরা সবাই তোমার সামনে রয়েছে। 20ঘৃণা আমার মন ভেংগে দিয়েছে, তাতে আমি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছি। আমার দুঃখে যেন অন্যে দুঃখ বোধ করে সেটাই আমি চেয়েছিলাম, কিন্তু আমি তা পাই নি। সান্ত্বনা দেবে এমন লোক আমি চেয়েছিলাম, কিন্তু তেমন কাউকে পেলাম না। 21আমার খাবারে তারা বিষ দিয়েছিল আর পিপাসার সময় দিয়েছিল সিরকা। 22তাদের ভোজের উৎসবগুলো ফাঁদ হোক, আর নিরাপদে থাকার ভাবটাই হোক তাদের জালের ফাঁদ। 23তাদের চোখ অন্ধ হোক যেন তারা দেখতে না পায়, আর সব সময় তাদের কোমরে খিঁচুনি ধরে যাক। 24তোমার ভীষণ অসন্তোষে তুমি তাদের বকুনি দাও; তোমার জ্বলন্ত ক্রোধ তাদের ধরে ফেলুক। 25তাদের থাকার জায়গা খালি হয়ে পড়ে থাকুক; তাদের তাম্বুতে বাস করার কেউ না থাকুক। 26তুমি যাকে শাস্তি দিয়েছ তারা তাকেই অত্যাচার করেছে; যাদের তুমি আঘাত করেছ তাদের যন্ত্রণাই হল তাদের আলোচনার বিষয়। 27অন্যায়ের উপর তাদের অন্যায় করে যেতে দাও; তারা যেন তোমার দেওয়া উদ্ধারের ভাগ না পায়। 28জীবিতদের তালিকা থেকে তাদের নাম যেন মুছে যায়, ঈশ্বরভক্তদের তালিকায় যেন তাদের নাম না থাকে। 29আমি দুঃখ ও যন্ত্রণার মধ্যে আছি; হে ঈশ্বর, তুমি আমাকে উদ্ধার করে তাদের নাগালের বাইরে রাখ। 30আমি গান গেয়ে ঈশ্বরের প্রশংসা করব; কৃতজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তাঁর গৌরব করব। 31বলদ এবং শিং ও খুরযুক্ত ষাঁড় উৎসর্গের চেয়ে তা সদাপ্রভুকে বেশী সন্তুষ্ট করবে। 32তা দেখে নম্র লোকেরা খুশী হবে; তোমরা যারা ঈশ্বরকে জানবার জন্য আগ্রহী, তোমরা বেঁচে থাক। 33সদাপ্রভু অভাবীদের কথা শোনেন; তাঁর লোকেরা, যারা বন্দীদশায় আছে, তাদের তিনি নীচু চোখে দেখেন না। 34আকাশ ও পৃথিবী তাঁর প্রশংসা করুক; সমুদ্র ও তার মধ্যে ঘুরে বেড়ানো সব প্রাণী তাঁর প্রশংসা করুক; 35কারণ ঈশ্বর সিয়োনকে উদ্ধার করবেন, যিহূদার শহরগুলো আবার গড়বেন; তখন তাঁর লোকেরা সেখানে বাস করবে আর তার অধিকারী হবে। 36তাঁর দাসদের বংশের লোকেরাই তা অধিকার হিসাবে পাবে, আর যারা তাঁকে ভালবাসে তারাই সেখানে বাস করবে।

will be added

X\