CLV
Audio:
Drama
  • Drama
  • Non-Drama
Text Size

লূক 24 - Bengali - Common Language Version - Bible.is - BNGCLV

  1  সপ্তার প্রথম দিনের খুব সকালবেলা সেই স্ত্রীলোকেরা সেই সুগন্ধি মশলা নিয়ে কবরের কাছে গেলেন।   2  তাঁরা দেখলেন কবরের মুখ থেকে পাথরখানা সরিয়ে রাখা হয়েছে,   3  কিন্তু কবরের ভিতরে গিয়ে তাঁরা প্রভু যীশুর দেহ দেখতে পেলেন না।   4  যখন তাঁরা অবাক হয়ে সেই বিষয়ে ভাবছিলেন তখন বিদ্যুতের মত ঝক্‌ঝকে কাপড় পরা দু’জন লোক তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ালেন।   5  এতে স্ত্রীলোকেরা ভয় পেয়ে মাথা নীচু করলেন। লোক দু’টি তাঁদের বললেন, “যিনি জীবিত তাঁকে মৃতদের মধ্যে খোঁজ করছ কেন?   6  তিনি এখানে নেই; তিনি জীবিত হয়ে উঠেছেন। তিনি যখন গালীলে ছিলেন তখন তিনি তোমাদের কাছে যা বলেছিলেন তা মনে করে দেখ।   7  তিনি বলেছিলেন, মনুষ্যপুত্রকে পাপী লোকদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে। তার পরে তাঁকে ক্রুশে দেওয়া হবে এবং তৃতীয় দিনে তাঁকে আবার জীবিত হয়ে উঠতে হবে।”   8  তখন তাঁদের সেই কথা মনে পড়ল।   9  তাঁরা কবর থেকে ফিরে গিয়ে সেই এগারোজন শিষ্য এবং অন্য সকলকে এই সব কথা জানালেন।   10  সেই স্ত্রীলোকদের মধ্যে ছিলেন মগ্‌দলীনী মরিয়ম, যোহানা ও যাকোবের মা মরিয়ম। তাঁদের সংগে আর অন্য যে স্ত্রীলোকেরা ছিলেন তাঁরাও এই সমস্ত কথা প্রেরিতদের কাছে বললেন।   11  কিন্তু সেই সব কথা তাঁদের কাছে বাজে কথার মতই মনে হল। সেইজন্য সেই স্ত্রীলোকদের কথা তাঁরা বিশ্বাস করলেন না।   12  পিতর কিন্তু উঠে দৌড়ে কবরের কাছে গেলেন এবং নীচু হয়ে কেবল কাপড়গুলোই দেখতে পেলেন। যা ঘটেছে তাতে আশ্চর্য হয়ে তিনি ফিরে আসলেন।   13  সেই দিনেই দু’জন শিষ্য ইম্মায়ূ নামে একটা গ্রামে যাচ্ছিলেন। গ্রামটা যিরূশালেম থেকে প্রায় সাত মাইল দূরে ছিল।   14  যা ঘটেছে তা নিয়ে তাঁরা আলাপ-আলোচনা করছিলেন।   15  সেই সময় যীশু নিজেই সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁদের সংগে হাঁটতে আরম্ভ করলেন।   16  তাঁদের চোখ যেন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তাই তাঁরা যীশুকে চিনতে পারলেন না।   17  তখন যীশু তাঁদের বললেন, “আপনারা কি কথা বলতে বলতে যাচ্ছেন?” সেই দু’জন শিষ্য ম্লান মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন।   18  তখন ক্লিয়পা নামে তাঁদের মধ্যে একজন যীশুকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনিই কি যিরূশালেমের একমাত্র লোক যিনি জানেন না এই কয়দিনে সেখানে কি কি ঘটছে?”   19  যীশু তাঁদের বললেন, “কি কি ঘটেছে?” তাঁরা বললেন, “নাসরত গ্রামের যীশুকে নিয়ে যা যা ঘটেছে। তিনি নবী ছিলেন। তিনি কাজে ও কথায় ঈশ্বর ও সমস্ত লোকের চোখে শক্তিশালী ছিলেন।   20  আমাদের প্রধান পুরোহিতেরা ও ধর্ম-নেতারা তাঁকে রোমীয়দের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলেন যাতে তারা তাঁর বিচার করে তাকে মৃত্যুর শাস্তি দেয়। পরে সেই যিহূদী নেতারা তাঁকে ক্রুশে দিয়েছিলেন।   21  আমরা আশা করেছিলাম তিনিই ইস্রায়েল জাতিকে মুক্ত করবেন। কেবল তা-ই নয়, আজ তিন দিন হল এই সব ঘটনা ঘটেছে।   22  আবার আমাদের দলের কয়েকজন স্ত্রীলোক আমাদের অবাক করেছেন। তাঁরা খুব সকালে যীশুর কবরে গিয়েছিলেন,   23  কিন্তু সেখানে তাঁর দেহ দেখতে পান নি। তাঁরা ফিরে এসে বললেন, তাঁরা স্বর্গদূতদের দেখা পেয়েছেন আর সেই স্বর্গদূতেরা তাঁদের বলেছেন যে, যীশু বেঁচে আছেন।   24  তখন আমাদের সংগে যাঁরা ছিলেন তাঁদের মধ্যে কয়েকজন কবরে গিয়ে স্ত্রীলোকেরা যেমন বলেছিলেন ঠিক তেমনি দেখতে পেলেন, কিন্তু যীশুকে দেখতে পেলেন না।”   25  তখন যীশু তাঁদের বললেন, “আপনারা কিছুই বোঝেন না। আপনাদের মন এমন অসাড় যে, নবীরা যা বলেছেন তা আপনারা বিশ্বাস করেন না।   26  এই সমস্ত কষ্ট ভোগ করে কি মশীহের মহিমা লাভ করবার কথা ছিল না?”   27  এর পরে তিনি মোশির এবং সমস্ত নবীদের লেখা থেকে আরম্ভ করে গোটা পবিত্র শাস্ত্রের মধ্যে তাঁর নিজের বিষয়ে যা যা লেখা আছে তা সবই তাঁদের বুঝিয়ে বললেন।   28  তাঁরা যে গ্রামে যাচ্ছিলেন সেই গ্রামের কাছাকাছি আসলে পর যীশু আরও দূরে যাবার ভাব দেখালেন।   29  তখন তাঁরা খুব সাধাসাধি করে তাঁকে বললেন, “এখন বেলা গেছে, সন্ধ্যা হয়েছে। আপনি আমাদের সংগে থাকুন।” এতে তিনি তাঁদের সংগে থাকবার জন্য ঘরে ঢুকলেন।   30  যখন তিনি তাঁদের সংগে খেতে বসলেন তখন রুটি নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন এবং তা টুকরা করে তাঁদের দিলেন।   31  তখন তাঁদের চোখ খুলে গেল; তাঁরা যীশুকে চিনতে পারলেন, কিন্তু তার সংগে সংগেই তাঁকে আর দেখা গেল না।   32  তখন তাঁরা একে অন্যকে বললেন, “রাস্তায় যখন তিনি আমাদের সংগে কথা বলছিলেন এবং পবিত্র শাস্ত্র বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন তখন আমাদের অন্তর কি জ্বলে জ্বলে উঠছিল না?”   33  তখনই সেই দু’জন উঠে যিরূশালেমে গেলেন এবং সেই এগারোজন শিষ্য ও তাঁদের সংগে অন্যদেরও এক জায়গায় দেখতে পেলেন।   34  প্রভু যে সত্যিই জীবিত হয়ে উঠেছেন এবং শিমোনকে দেখা দিয়েছেন তা নিয়ে তখন তাঁরা আলোচনা করছিলেন।   35  সেই দু’জন শিষ্য রাস্তায় যা হয়েছিল তা তাঁদের জানালেন। তাঁরা আরও জানালেন, তিনি যখন রুটি টুকরা টুকরা করছিলেন তখন কেমন করে তাঁরা তাঁকে চিনতে পেরেছিলেন।   36  সেই শিষ্যেরা যখন এই কথা বলছিলেন তখন যীশু নিজে তাঁদের মধ্যে এসে দাঁড়িয়ে তাঁদের সবাইকে বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক।”   37  তাঁরা ভূত দেখছেন ভেবে খুব ভয় পেলেন।   38  যীশু তাঁদের বললেন, “কেন তোমরা অস্থির হচ্ছ আর কেনই বা তোমাদের মনে সন্দেহ জাগছে?   39  আমার হাত ও পা দেখ। দেখ, এ আমি। আমাকে ছুঁয়ে দেখ, কারণ ভূতের তো আমার মত হাড়-মাংস নেই।”   40  এই কথা বলে যীশু তাঁর হাত ও পা তাঁদের দেখালেন।   41  কিন্তু তাঁরা এত আশ্চর্য ও আনন্দিত হয়েছিলেন যে, বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তখন যীশু তাঁদের বললেন, “তোমাদের এখানে কি কোন খাবার আছে?”   42  তাঁরা তাঁকে এক টুকরা ভাজা মাছ দিলেন।   43  তিনি তা নিয়ে তাঁদের সামনেই খেলেন।   44  তারপর তিনি তাঁদের বললেন, “আমি যখন তোমাদের সংগে ছিলাম তখন বলেছিলাম, মোশির আইন-কানুনে, নবীদের লেখায় ও গীতসংহিতার মধ্যে আমার বিষয়ে যে যে কথা লেখা আছে তার সব পূর্ণ হতেই হবে।”   45  পবিত্র শাস্ত্র বুঝবার জন্য তিনি শিষ্যদের বুদ্ধি খুলে দিলেন এবং তাঁদের বললেন, “লেখা আছে, মশীহকে কষ্ট ভোগ করতে হবে এবং তিন দিনের দিন মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে উঠতে হবে।   47  আরও লেখা আছে, যিরূশালেম থেকে আরম্ভ করে সমস্ত জাতির কাছে মশীহের নামে এই খবর প্রচার করা হবে যে, পাপ থেকে মন ফিরালে পাপের ক্ষমা পাওয়া যায়।   48  তোমরাই এই সমস্ত বিষয়ের সাক্ষী।   49  দেখ, আমার পিতা যা দেবার প্রতিজ্ঞা করেছেন তা আমি তোমাদের কাছে পাঠিয়ে দেব। স্বর্গ থেকে শক্তি না পাওয়া পর্যন্ত তোমরা এই শহরেই থেকো।”   50  পরে যীশু তাঁর শিষ্যদের নিয়ে বৈথনিয়া পর্যন্ত গেলেন। সেখানে তিনি হাত তুলে তাঁদের আশীর্বাদ করলেন।   51  আশীর্বাদ করতে করতেই তিনি তাঁদের ছেড়ে গেলেন এবং তাঁকে স্বর্গে তুলে নেওয়া হল।   52  তখন তাঁরা উবুড় হয়ে প্রণাম করে তাঁকে ঈশ্বরের সম্মান দিলেন এবং খুব আনন্দের সংগে যিরূশালেমে ফিরে গেলেন।   53  তাঁরা সব সময় উপাসনা-ঘরে উপস্থিত থেকে ঈশ্বরের গৌরব করতে লাগলেন।