1 “কিন্তু এখন যারা আমার চেয়ে বয়সে ছোট তারা আমাকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে; তাদের পিতাদের আমি আমার ভেড়ার পাল রক্ষাকারী কুকুরদের সংগে রাখতেও ঘৃণা বোধ করতাম। 2 তাদের শক্তি আমার কি কাজে লাগত? তাদের কোন শক্তিই ছিল না। 3 অভাব ও খিদের দরুন তাদের চেহারা শুকনা ছিল; তারা রাতের বেলা নির্জন পোড়ো জায়গায় যা পেত তা-ই চিবাত। 4 তারা ঝোপের মধ্য থেকে স্বাদহীন শাক তুলত; রেতম গাছের শিকড় তাদের খাবার ছিল। 5 লোকসমাজ থেকে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল; তারা যেন চোর সেইভাবে লোকেরা তাদের পিছনে চিৎকার করত। 6 শুকনা নদীর বুকে তাদের বাস করতে হত; তারা মাটির গর্তে ও পাহাড়ের ফাটলে থাকত। 7 ঝোপের মধ্য থেকে তারা গাধার মত ডাকত, আগাছার মধ্যে ঠাসাঠাসি করে বাস করত। 8 তারা ছিল অপদার্থ ও দুর্নামের পাত্র; দেশ থেকে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। 9 “আর এখন তাদের ছেলেরা গান গেয়ে গেয়ে আমাকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে; তাদের কাছে আমি হয়েছি একটা টিট্কারির পাত্র। 10 তারা আমাকে ঘৃণা করে আমার কাছ থেকে দূরে থাকে; আমার মুখে থুথু ফেলতেও তারা ভয় পায় না। 11 ঈশ্বর আমাকে শক্তিহীন করেছেন আর আমাকে কষ্টে ফেলেছেন; কাজেই তারা কোন বাধা না মেনেই আমার বির€দ্ধে উঠেছে। 12 উগ্র যুবকেরা যেন ডান দিক থেকে আমাকে আক্রমণ করে আর আমাকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে; আমাকে আক্রমণ করতে তারা দেয়াল পার হবার জন্য ঢিবি তৈরী করে। 13 তারা আমার পথ আট্কায়; কারও সাহায্য ছাড়াই তারা আমার সর্বনাশ করে। 14 তারা যেন দেয়ালের বড় ফাঁকের মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসে; ধ্বংসসূপের মধ্য দিয়েও তারা তাড়াতাড়ি এসে পড়ে। 15 নানারকম ভয় আমাকে ঢেকে ফেলে; সেই ভয় আমার সম্মানকে বাতাসের মত উড়িয়ে দেয়; আমার সফলতা মেঘের মত মিলিয়ে যায়। 16 “এখন আমার জীবনে ভাটা পড়েছে; কষ্টের দিনগুলো আমাকে আক্রমণ করেছে। 17 রাতে আমার হাড়ের মধ্যে ভীষণ ব্যথা করে; সেই চিবানো ব্যথা কখনও থামে না। 18 ঈশ্বর কুসিগীরের মত তাঁর মহাশক্তিতে আমার কাপড় ধরেন, আমার জামার গলার মত করে তিনি আমাকে জাপ্টে ধরেন; 19 তারপর তিনি আমাকে কাদায় ছুঁড়ে ফেলে দেন। আমি তো ধুলা আর ছাইয়ের মত হয়ে গেছি। 20 “হে ঈশ্বর, আমি তোমার কাছে কাঁদি, কিন্তু তুমি উত্তর দাও না; আমি দাঁড়িয়ে থাকি, কিন্তু তুমি কেবল আমার দিকে চেয়ে দেখ। 21 তুমি আমার প্রতি নিষ্ঠুর ব্যবহার করছ; তোমার শক্তিশালী হাতে তুমি আমাকে আক্রমণ করেছ। 22 তুমি আমাকে তুলে নিয়ে বাতাসে ছেড়ে দিয়েছ; ঝড়ের মধ্যে ফেলে তুমি আমাকে নাচাচ্ছ। 23 আমি জানি তুমি আমাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাচ্ছ, সমস্ত জীবিত লোকদের জন্য ঠিক করা জায়গায় নিয়ে যাচ্ছ। 24 “যে পড়ে গেছে আর কষ্টের মধ্যে সাহায্যের জন্য কান্নাকাটি করছে তাকে কি কেউ আঘাত করে? 25 যারা কষ্টে পড়েছে তাদের জন্য কি আমি কাঁদি নি? গরীবদের জন্য কি আমি প্রাণে ব্যথা পাই নি? 26 কিন্তু যখন আমি মংগলের আশা করলাম তখন অমংগল ঘটল; যখন আলোর অপেক্ষা করলাম তখন অন্ধকার হল। 27 আমার ভিতরটা তোলপাড় করছে, থামছে না; যন্ত্রণার দিন আমার সামনে উপস্থিত হয়েছে। 28 আমি রোদহীন দিনের মত কালো মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছি; আমি সভার মধ্যে উঠে দাঁড়িয়ে সাহায্য চাই। 29 আমি শিয়ালের ভাই ও উটপাখীর বন্ধু হয়েছি। 30 আমার চামড়া কালো হয়ে উঠে যাচ্ছে; জ্বরে আমার গা পুড়ে যাচ্ছে। 31 আমার বীণা থেকে এখন দুঃখের সুর বের হয়, আর বাঁশী থেকে বের হয় বিলাপের সুর।