কলসীয় 3

1তাহলে তোমরা যখন খ্রীষ্টের সংগে মৃত্যু থেকে জীবিত হয়েছ তখন খ্রীষ্ট স্বর্গে যেখানে ঈশ্বরের ডান দিকে বসে আছেন সেই স্বর্গীয় বিষয়গুলোর জন্য আগ্রহী হও। 2জাগতিক বিষয়ে মনোযোগ না দিয়ে বরং স্বর্গীয় বিষয়ে মনোযোগ দাও। 3তোমরা তো মরে গেছ এবং তোমাদের জীবন খ্রীষ্টের সংগে ঈশ্বরের মধ্যে লুকানো আছে। 4যিনি তোমাদের জীবন সেই খ্রীষ্ট যখন প্রকাশিত হবেন তখন তোমরাও তাঁর সংগে তাঁর মহিমার ভাগী হয়ে প্রকাশিত হবে। 5সেইজন্য তোমাদের পাপ-স্বভাবের মধ্যে যা কিছু আছে তা ধ্বংস করে ফেল। তাতে আছে সব রকম ব্যভিচার, অশুচিতা, কুবাসনা, মন্দ ইচ্ছা এবং লোভ যাকে এক রকম প্রতিমাপূজা বলা যায়। 6যারা ঈশ্বরের অবাধ্য তাদের উপর এই সব কারণেই ঈশ্বরের শাস্তি নেমে আসছে। 7তোমরাও আগে ঐ রকম ভাবেই চলতে, 8কিন্তু এখন রাগ, মেজাজ দেখানো, হিংসা, গালাগালি এবং খারাপ কথাবার্তা তোমাদের কাছ থেকে দূর কর। 9একজন অন্যজনের কাছে মিথ্যা কথা বোলো না, কারণ তোমাদের পুরানো “আমি”কে তার কাজ সুদ্ধ কাপড়ের মত ছেড়ে ফেলে তোমরা তো নতুন “আমি”কে পরেছ। এই নতুন “আমি” আরও নতুন হতে হতে তার সৃষ্টিকর্তার মত হচ্ছে, যেন সেই সৃষ্টিকর্তাকে তোমরা পরিপূর্ণভাবে জানতে পার। 11এই অবস্থায় অযিহূদী বা যিহূদীর মধ্যে, সুন্নত-করানো বা সুন্নত-না-করানো লোকের মধ্যে, অশিক্ষিত, নীচজাতি, দাস বা স্বাধীন লোকের মধ্যে কোন তফাৎ নেই; সেখানে খ্রীষ্টই প্রধান এবং তিনি প্রত্যেকের মধ্যেই আছেন। 12এইজন্য ঈশ্বর যাদের বেছে নিয়ে নিজের জন্য আলাদা করে রেখেছেন তাঁর সেই প্রিয় লোক হিসাবে তোমরা আন্তরিক মায়া-মমতা, দয়া, নম্রতা, নরম স্বভাব ও ধৈর্য দিয়ে নিজেদের সাজাও। 13একে অন্যকে সহ্য কর এবং যদি কারও বিরুদ্ধে তোমাদের কোন দোষ দেবার কারণ থাকে তবে তাকে ক্ষমা কর। প্রভু যেমন তোমাদের ক্ষমা করেছেন তেমনি তোমাদেরও একজন অন্যজনকে ক্ষমা করা উচিত। 14আর এই সবের উপরে ভালবাসা দিয়ে নিজেদের সাজাও। ভালবাসাই ঐ সব গুণগুলোকে একসংগে বেঁধে পূর্ণতা দান করে। 15খ্রীষ্ট যে শান্তি দেন সেই শান্তি তোমাদের অন্তরে থেকে তোমাদের পরিচালনা করুক। শান্তিতে থাকবার জন্যই তো তোমাদের সবাইকে একদেহ হিসাবে ডাকা হয়েছে। তোমরা কৃতজ্ঞ থাক। 16খ্রীষ্টের বাক্যকে তোমাদের অন্তরে পরিপূর্ণভাবে বাস করতে দাও। ঈশ্বরের দেওয়া জ্ঞানে একে অন্যকে শিক্ষা ও পরামর্শ দাও এবং অন্তরে কৃতজ্ঞতার সংগে ঈশ্বরের উদ্দেশে গীতসংহিতার গান এবং আত্মিক ও প্রশংসার গান কর। 17তোমরা যা কিছু বল বা কর না কেন তা প্রভু যীশুর নামে কোরো এবং তাঁর মধ্যে দিয়েই পিতা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়ো। 18তোমরা যারা স্ত্রী, তোমরা প্রত্যেকে স্বামীর অধীনতা মেনে নাও, কারণ প্রভুর লোক হিসাবে এটাই উপযুক্ত। 19তোমরা যারা স্বামী, তোমরা প্রত্যেকে স্ত্রীকে ভালবেসো এবং তার সংগে কঠোর ব্যবহার কোরো না। 20ছেলেমেয়েরা, তোমরা সব বিষয়ে মা-বাবার বাধ্য থেকো, কারণ এতে প্রভু খুশী হন। 21তোমরা যারা পিতা, তোমাদের ছেলেমেয়েদের মন তেতো করে তুলো না, যেন তারা উৎসাহহীন হয়ে না পড়ে। 22তোমরা যারা দাস, তোমরা সব বিষয়ে তোমাদের এই জগতের মনিবদের বাধ্য থেকো। যখন তাঁরা তোমাদের লক্ষ্য করেন কেবল তখনই যে তাঁদের খুশী রাখবার জন্য তাঁদের বাধ্য থাকবে তা নয়, বরং খাঁটি অন্তরে প্রভুর উপর ভক্তি রেখে তাঁদের বাধ্য থেকো। 23তোমরা যা-ই কর না কেন, তা মানুষের জন্য নয় বরং প্রভুর জন্য করছ বলে মন-প্রাণ দিয়ে কোরো, 24কারণ তোমরা তো জান, প্রভু তাঁর লোকদের জন্য যা রেখেছেন তা তোমরা পুরস্কার হিসাবে তাঁরই কাছ থেকে পাবে। তোমরা যাঁর সেবা করছ তিনি প্রভু খ্রীষ্ট। 25যে অন্যায় করে সে তার ফল পাবে। প্রভুর চোখে সবাই সমান।

will be added

X\